বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
ঘটনার সাথে জড়িত নাঈম, তুহিন ও ইয়াসিনকে গ্রেফতার করা হয়। Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা:
পাবনার পদ্মা নদী থেকে হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগে প্যাঁচানো অবস্থায় বস্তাবন্দি এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম রিয়া খাতুন (১৫), সে পাবনা সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুরের মো: আজিজুল প্রামানিক এর মেয়ে। সে স্থানীয় মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সে নিখোঁজ ছিল। আজ সকালে পদ্মা নদীর তীর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (০৩ জুন) সকাল ১০ টার দিকে সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর পীরপুর পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় রিয়ার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টার সময় রিয়া খাতুন নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একপর্যায়ে কিছু আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। যা পরবর্তীতে তীব্র বিরোধে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে নাঈম ভিকটিমকে ধারালো চাকু প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত নাঈম রিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর লাশ গুম করতে নাঈম তার সহযোগীদের ঘটনাস্থলে ডেকে আনে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা নঈম এর সাথে ভিকটিম রিয়া খাতুনের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার পুর্ব রাঘবপুর মহল্লার মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে মোঃ নাঈম, মোঃ শফিক শেখের ছেলে মোঃ ইয়াসিন শেখ, মোঃ শিমুল প্রামানিকের ছেলে মোঃ তুহিন প্রামানিক (১৭ )।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পদ্মার চরে কৃষকেরা কাজে যাওয়ার সময় তীরে ঠেকানো নৌকার পাশে একটি বস্তা ভাসতে দেখতে পায়। এমন সময় একজন বস্তার কাছে গিয়ে বুঝতে পারে যে ভিতরে মরদেহ আছে। এরপর কৃষকের কাজে ব্যবহৃত কাঁচি দিয়ে বস্তার মুখ খুলে দেখে যে একটি মেয়ের মরদেহ। তখন তারা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহ স্যারের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটির তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সদের তথ্য বিশ্লেষন করে আসামী সনাক্তের চেষ্টা করে। পরে ডিবির একটি দল নিবিড় তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত নাঈম, তুহিন ও ইয়াসিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মরদেহ পরিবহনকারী সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।